তুমি কি নতুন কোনো শব্দ শিখেছ?
এখানে তুমি ‘অ্যালগরিদম’, ‘ফেক নিউজ’ ও ‘সাইবার বুলিং’-এর মতো শব্দের মানে খুঁজে পাবে।
এখানে তুমি ‘লাইভ স্ট্রিমিং’- এর মতো অনলাইনে নতুন ফিচার সম্পর্কেও জানতে পারবে।
এর বাইরেও অতিরিক্ত লাইব্ররি চ্যালেঞ্জ খুঁজে নিতে পারো, যা তোমাকে ডিজিটাল বিশ্ব সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে সহায়তা করবে!
লাইব্রেরি ডাউনলোড করে নাও
তুমি অফলাইনেও লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারবে, এখানে পুরোটা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নাও।
অ্যালগরিদম:
কম্পিউটারের যেকোনো কিছু করার জন্য নির্দেশনা প্রয়োজন। সহজ শর্তে, অ্যালগরিদম হচ্ছে, এক ধরনের নির্দেশনাবলী যা তোমার কম্পিউটার অনুসরণ করবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে।
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক অনেক কারণেই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। যার মধ্যে রয়েছে:
- নিউজ ফিডে কোন পোস্ট দেখা যাবে সেটা নির্বাচন করা
- পরিচিতদের নাম সুপারিশ করা
- লাইকের ওপর ভিত্তি করে পেইজ এর সাজেশন দেয়া
- স্প্যাম ও ভাইরাসের ক্ষতিকর লিঙ্ক শনাক্ত করা
- আগ্রহের উপর ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন
ছদ্মনাম:
কিছু কিছু অ্যাপে এই ফিচার ব্যবহার করা যায়। মানুষ প্রাপককে না জানিয়ে ও নিজের পরিচয় গোপন করে বার্তা পাঠাতে কিংবা মন্তব্য করতে মেসেজিং অ্যাপে ছদ্মনাম ব্যবহার করে। আবার কিছু অ্যাপ এমনভাবে তৈরি যাতে গ্রহীতা বার্তার কোনো প্রত্যুত্তর দিতে পারে না।
এক্ষেত্রে, ঝুঁকিগুলো কি কি?
ছদ্মনাম ব্যবহার কিংবা পরিচয় গোপন করা অন্যদের প্রতি কঠোর হওয়ার বিষয়টিকে অনেক সহজ করে দেয়। এটা কিছু মানুষকে অন্য মানুষ হিসেবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। এটা ক্যাটফিশিং নামেও পরিচিত। ছদ্মনাম ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এমন কোনো সেবা ব্যবহারের পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নাও যে কিভাবে ক্ষতিকর ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট বা অভিযোগ এবং ব্লক করতে হয়।
অ্যাপ্লিকেশন–অ্যাপ:
অ্যাপ্লিকেশন, অ্যাপ নামেই বেশি পরিচিত। এটা যেকোন ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম হতে পারে।
অ্যাপ খুব সহজেই স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবে ডাউনলোড করা যায়। স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলয়েড ডিভাইসে অ্যাপ আইকনের ওপর ক্লিক করার মাধ্যমেই ওই অ্যাপে প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে কিছু অ্যাপ বিনামূল্যে ডিভাইসের সাথে দেয়া থাকে যেমন ক্যালেন্ডার কিংবা ক্যালকুলেটরের মতো অ্যাপ। অন্যগুলো কিনে নিতে হয় অথবা ডাউনলোড করতে হয়। গ্রাহকদের জন্য নিজেদের সেবাকে সহজলভ্য করতে অনেক প্রতিষ্ঠানেরই অ্যাপ রয়েছে। যেমন অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ ও অনলাইনে কেনাকাটার অ্যাপ।
অনেক তরুণই তাদের স্মার্টফোনে হোয়াটসঅ্যাপ, উইচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো চ্যাট ও সোশ্যাল মিডিয়া সার্ভিসগুলো ব্যবহার করে।
ব্লকিং:
যেসব অ্যাপ ও ওয়েবসাইট অন্যদের সাথে যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়, যেমন- অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে তুমি যাদের চেনো না তারা তোমার সাথে যোগাযোগ করতে না পারার এবং তোমার কোনো পোস্ট ও তথ্য দেখতে না পারার সুযোগ রয়েছে। এটাকে বলা হয় ব্লকিং।
অনলাইন বিশ্ব বিচরণের সময় ব্লক করতে পারার ক্ষমতা তোমাকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখবে।
নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলোর কারণে তুমি অনলাইনে কাউকে ব্লক করে দিতে চাইতে পারো:
- তোমাকে নিয়ে অনলাইনে বুলিং কিংবা বিদ্রুপ করা হচ্ছে।
- তুমি বানোয়াট অ্যাকাউন্ট কিংবা বট (স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার বার্তা) থেকে স্প্যাম বার্তা পাচ্ছো।
- অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে তোমার সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করছে।
- তুমি চেনো না এমন কারো কাছ থেকে অনাকাঙ্খিত বার্তা পাচ্ছো।
তুমি আলাদাভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দেশনা পড়ে দেখতে পারো যে কিভাবে কাউকে ব্লক করতে হয় এবং ব্লক করার পরে তারা কি তোমাকে খুঁজে পাবে কি পাবে না। তুমি আশঙ্কা করতে পারো যে ব্লক করার পরে তোমার ব্লক করা ব্যক্তি কি কোনো নোটিফিকেশন পাবে কি না যে তুমি তাকে ব্লক করেছো। তবে, এটা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না কেননা সাধারণত এমন কোনো নোটিফিকেশন যায় না। তারপরেও, আলাদাভাবে ওয়েবসাইটে এটা দেখে নেয়া ভালো। প্রতিটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানেরই ব্লক করার ব্যাপারে আলাদা আলাদা নিয়ম রয়েছে।
চ্যালেঞ্জ: কোনো একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে গিয়ে ওয়েবসাইটটির ‘ব্লকিং’ প্রক্রিয়া দেখে নাও। প্রয়োজনে লিখে রাখো যেন তুমি অন্য কাউকে এ সম্পর্কে জানাতে পারো কিভাবে অনলাইনে কাউকে ব্লক করতে হয়।
ব্লগ:
এটা ওয়েবসাইট কিংবা ওয়েবসাইটের হালনাগাদ তথ্য যা সাধারণত একজন ব্যক্তি কিংবা ছোট গ্রূপ পরিচালনা করে থাকে। ব্লগ সাধারণত সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা হয়।
যে কেউ নিজেদের ব্লগ তৈরি করতে পারে এবং এটা খুব সহজেই করা যায়। তোমার শখ কিংবা আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে আনন্দের সাথে লেখার সুযোগ রয়েছে। একই ধরনের সমস্যায় থাকা কিছু মানুষ অন্যদের সাহায্য করতে নিজেদের ব্লগ তৈরি করে। এটাকে বলা হয় পিয়ার-টু-পিয়ার সাপোর্ট। তবে, সব ব্লগই নির্ভরযোগ্য নয়। কিছু মানুষ কোন প্রমাণ বা নথি ছাড়াই তাদের মতামত জানাতে পারে। কিছু ব্লগে অশোভন, বিব্রতকর ও বিপজ্জনক মতাদর্শ কিংবা ছবি থাকতে পারে। যেকোনো বানোয়াট সংবাদ পড়ে কিভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে সে ব্যাপারে জানার চেষ্টা করো।
ব্রাউজার:
ওয়েব ব্রাউজার হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন।
জনপ্রিয় কিছু ব্রাউজার হচ্ছে ক্রোম, সাফারি, ফায়ারফক্স ও মাইক্রোসফট এজ। তুমি অনলাইনে ওয়েব পেজ, ছবি ও ভিডিও সহ অন্যান্য তথ্যের জন্য ব্রাউজার ওপেন করতে পারো।
ক্যাটফিশিং:
ডিজিটাল বিশ্বে, ক্যাটফিশ হচ্ছে তারা, যারা নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে অন্যদের পরিচয় ধারণ করে, যেটা তারা নয়।
উদাহরণস্বরূপ, বানোয়াট সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল তৈরি করা খুব একটা কঠিন নয়। একটি নাম দিয়ে ও অন্য কারো ছবি আপলোড করে এটা করা যায়। অনলাইনে অন্য কারো পরিচয় দিয়ে ক্ষতিকর ও ঘৃণামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাধারণত এটা করা হয়।
তুমি চেনো না এমন কেউ যদি তোমাকে অনলাইনে বন্ধু বানাতে চায় কিংব কোনো বার্তা দেয় তবে, সতর্ক হও যে তারা যে নাম ও ছবি ব্যবহার করছে সেটা আসল কিনা।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে, এ ধরনের ক্যাটফিশ আকর্ষণীয় ছবি ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাতে অন্যরা তার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে।
সাইবার-বুলিং:
অনলাইনে বুলিং করাই সাইবার বুলিং। যদি কেউ অনলাইনে কারো সাথে বাজে আচরণ করে কিংবা উত্যক্ত করে তবে সেটা সাইবার বুলিং।
সাইবার বুলিং অনলাইনে বিদ্রুপ করার চেয়ে একটু আলাদা যদিও দু’টো শব্দই প্রায় একই অর্থে ব্যবহার করা যায়।
সাইবার বুলিং সাধারণত পরিচিতরাই করে থাকে। এটা অনেকটা অফলাইনে কাউকে হেয় করার মতোই।
সাধারনত অপরিচিত মানুষরাই বিদ্রুপমূলক মন্তব্য কিংবা বার্তা পাঠিয়ে থাকে। যাদের সাথে কখনও দেখা হয়নি তাদেরকে উত্যক্ত করতে বা তাদের সাথে বিতর্কে জড়াতে এটা করা হয়।
কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ:
- তোমার সাথে না ঘটলেও তুমি বিশ্বস্ত কারো সাথে সাইবার বুলিং নিয়ে কথা বলো, যারা তোমার চেয়ে বড়। তোমার বন্ধু যে কিনা সাইবার বুলিং নিয়ে ভীত অথবা মর্মাহত তার হয়ে নির্ভরযোগ্য বড় কারো সাথে কথা বলো।
- অনলাইনে সাইবার বুলি হলে তা ব্লক ও রিপোর্ট করতে বড় কারও সাহায্য নাও।
- উত্যক্ত করতে চায় এমন কোনো বার্তার কোনো উত্তর দিও না। রিপোর্ট করো ও বড়োদের সাহায্য নাও।
- অশোভন বার্তা মুছে ফেলতে চাইলেও, নির্ভরযোগ্য অভিভাবককে দেখাও এবং প্রমাণ হিসেবে রেখে দাও।
ডিজিটাল-ফুটপ্রিন্ট:
ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় তুমি কি কি করছেন তাই হচ্ছে তোমার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট। অনলাইনে তোমার সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই এর উপর নির্ভরশীল।
তোমার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের মধ্যে রয়েছে- তুমি যেসব কন্টেন্ট তৈরি, পোস্ট ও শেয়ার কর (এটা তোমাকে নিয়ে পোস্ট ও তোমার শেয়ার করা অন্যদের পোস্টও হতে পারে)। তুমি অনলাইনে কি শেয়ার করছ, লাইক দিচ্ছ কিংবা পোস্ট করছ তা তোমার ইতিবাচক ডিজিটাল তৈরির ফুটপ্রিন্টের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।
তুমি অনলাইনে নেতিবাচক এমন কিছু করছেন না যা তোমার সুনাম নষ্ট করতে পারে, সে ব্যাপারটি নিশ্চিৎ কর। উদাহরণস্বরূপ, তোমার নিজের নাম অনলাইনে সার্চ করার পর যদি হাস্যকর বা অনুপযোগী কোনো ছবি চলে আসে যা পাবলিকলি শেয়ার করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে তোমার শিক্ষক বা ভবিষ্যৎ চাকরিদাতার সেটা দেখতে পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চ্যালেঞ্জঃ তোমার নিজের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টে নেতিবাচক কন্টেন্টগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা কর। অনলাইনে নিজেকে সার্চ কর এবং বিব্রতকর, অশোভন কিংবা ক্ষতিকর কিছু চলে আসলে তা ডিলিট কর/মুছে ফেলো । তোমার প্রাইভেসি সেটিং পরিবর্তন করতে পারো যাতে করে সব তথ্য সুরক্ষিত থাকবে এবং তোমার নামে অনলাইন সার্চ করলে অন্যরা কি দেখতে পাবেন সে ব্যাপারে নিশ্চিৎ থাকো ।
ডিজিটাল রেজিলিয়েন্স (ডিজিটাল মাধ্যমে সহনশীলতা):
ইউকে কাউন্সিল ফর চাইল্ড ইন্টারনেট সেফটি (ইউকেসিসিআইএস) রেজিলিয়েন্স ওয়ার্কিং গ্রূপের সংজ্ঞা অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে সহনশীলতা হচ্ছে
‘ডিজিটাল রেসিলিয়েন্স এর মানে হলো- কখন তুমি অনলাইনে অনিরাপদ আছো এটা বোঝার ক্ষমতা, অনলাইনে কোনো বিপদ বা ভুল হলে কী করতে হবে তা জানা, অনলাইনে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া এবং নেতিবাচক কোনো অবস্থা থেকে উত্তরণের সক্ষমতা থাকা।’
- কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে সহনশীল হলে যা করতে পারবে:
- বুঝতে পারবে কখন তারা অনলাইন ঝুঁকিতে রয়েছে
- সাহায্য চাইতে হলে কী করতে হবে সে সম্পর্কে জানবে
- অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে
- নেতিবাচক অবস্থা থেকে নিজেদের উত্তরণ ঘটাতে পারবে
এনক্রিপশন:
অননুমোদিত অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে এনক্রিপশন হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো তথ্য বা ডাটা কোডে রূপান্তর করা যাবে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্ট করা বার্তা শুধুমাত্র প্রেরক ও গ্রহীতাই পড়তে পারবে। এটা ভালোও হতে পারে, মন্দও হতে পারে।
ভালোদিক হচ্ছে, কোনো বার্তা এনক্রিট করা হলে তা সুরক্ষিত ও ব্যক্তিগত থাকবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য আদান প্রদানের ব্যাপারে খুবই উপকারী।
খারাপ দিক হচ্ছে, কিছু মানুষ এর সুবিধা নিয়ে এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করে ক্ষতিকর তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে যা মডারেট বা পরিবর্তন করা ও সনাক্ত করা যায় না।
নিজের-স্বার্থে-নেতিবাচক-ব্যবহার:
অনলাইনে এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা অসহায়দের কাছ থেকে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে এবং তারা যা চায় তা পেতে অন্যদেরকে নিজেদের স্বার্থে খারাপভাবে ব্যবহার করে। কোনো তরুণ-তরুণী এর শিকার হলে সে বিব্রত হতে পারে এবং খারাপ বোধ করতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের কোনো ভুল না থাকলেও তারা নিজেদেরকেই দায়ী মনে করতে পারে।
অনলাইনে কোনো বিষয় নিয়ে তুমি লজ্জিত বোধ করলে সেটা নির্ভরযোগ্য বড় কাউকে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা যদি তোমার জন্য সহজ না হয়, তোমার এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে যে রিপোর্ট করতে সাহায্য করতে পারবে এবং প্রতিকূল অবস্থা থেকে উত্তরণে সহায়তা করবে।
ফেইসবুক:
২০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে ফেইসবুক বিশ্বের বৃহত্তম সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক।
ফেইসবুকে তুমি যা করতে পারবেন:
- প্রোফাইল তৈরি করা
- ছবি আপলোড করা
- স্ট্যাটাস আপডেট করা
- বন্ধুদের অ্যাড করা
- গ্রূপে জয়েন করা
- ছবি ও স্ট্যাটাসে লাইক দেয়া
- লাইভ স্ট্রিমিং ব্যবহার করে ফেইসবুক লাইভে আসা
ফেইসবুকের লক্ষ্য যতো বেশি সম্ভব ব্যবহারকারী বাড়ানো এবং এটা অর্জনের সহজ উপায় হচ্ছে সবাইকে বিনামূল্যে সেবা দেয়া।
ফেইসবুক তোমার তথ্য বিজ্ঞাপন্দাতাদের কাছে বিক্রি করে নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়। এর মধ্যে রয়েছে তোমার ফেইসবুক লাইকের বিস্তারিত তথ্য, আগ্রহ ও তোমার ক্লিক করা লিঙ্ক সমূহের তথ্য। উদাহরণস্বরূপ, তুমি যদি খেলা সংক্রান্ত যেকোনো পোস্টে সবসময় লাইক দিয়ে থাকো এবং তথ্য শেয়ার করো তবে তুমি দেখবে ফেইসবুক তোমার এ আগ্রহের বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করছে।
এরপর বিজ্ঞাপনদাতারা জানতে পারবে কোন বিজ্ঞাপন তোমার টাইমলাইন এ দেখানো বেশি উপযুক্ত হবে।
চ্যালেঞ্জঃ এরপর যখন তুমি ইন্টারনেটে যাবে তোমার পেইজ এ প্রদর্শন করা বিজ্ঞাপনগুলো লক্ষ্য করে দেখবে। বিভিন্ন পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপনের বিষয়গুলো আলাদা করে লিখে রাখবে এবং পরে এগুলো মিলিয়ে দেখবে যে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনগুলো তোমার ব্যক্তিগত আগ্রহের বিষয়গুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
বানোয়াট-সংবাদ:
তুমি ‘বানোয়াট সংবাদ’ (ফেক নিউজ), এ শব্দটির সাথে পরিচিত থাকতে পারো মিডিয়াতে কিংবা বন্ধুদের কাছে শুনে। বানোয়াট সংবাদ অনেক ধরনের হতে পারে।
কিছু বানোয়াট সংবাদে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয় মনগড়া খবর ও ছবি তৈরি করে। এক্ষেত্রে, লক্ষ্য থাকে সত্য নয় এমন কোনো বিষয় সবার সামনে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা।
কিছু বানোয়াট সংবাদের ক্ষেত্রে আবার কিছু সত্য থাকে কিন্তু যা বিপথগামী করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছ, মিথ্যা তথ্য পরিবেশন যা ঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি কিংবা অতিরঞ্জিত।
তবে, মিথ্যা বা বানোয়াট সংবাদ শনাক্ত করতে পারা সবসময় সহজ নয়। অনলাইনে প্রতিনিয়ত অনেক তথ্যই পাওয়া যায় এবং এতো দ্রুত এসব তথ্য পোস্ট হয় এবং ছড়ায় যে অনেক সময় স্বনামধন্য সংবাদদাতা প্রতিষ্ঠানও অনির্ভরযোগ্য তথ্য পরিবেশন করে। পরে তারা যতো দ্রুতসম্ভব তা তাদের ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে সরিয়ে ফেলে । কিন্তু ততক্ষণে পুরো পৃথিবীজুড়ে সে সংবাদ শেয়ার হয়ে যায়।
যদিও, সবসময় এটা ঘটে না। এক্ষেত্রে, কিছু বিষয় রয়েছে যা তোমাকে সহায়তা করতে পারে অনলাইনে কোন তথ্যটি বিশ্বাসযোগ্য আর কোনটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
- সংবাদটি কি অন্য কোথাও প্রকাশিত হয়েছে? নির্ভরযোগ্য অন্য সাইট এ খুঁজে দেখতে পারো
- সংবাদে প্রদর্শিত ছবিটি কি বিশ্বাসযোগ্য? এটা কি অন্য কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে? উদাহরণস্বরূপ, চাঁদে গোলাপি একটি জিরাফ ভেসে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়টাই প্রমাণ করে যে সংবাদটি সত্যি নয়
- ওয়েব অ্যাড্রেসটি অদ্ভুত লাগছে? নাকি এটা বিশ্বাসযোগ্য কোনো ওয়েবসাইট?
- তুমি কি জানেন এর লেখক কে? যে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা খবরটি দিয়েছে, তুমি কি আগে তার নাম কোথাও শুনেছেন?
- তুমি কি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আগে থেকেই জানেন? তারা কি নির্ভরযোগ্য?
চ্যালেঞ্জ: অনলাইনে অবিশ্বাস্য কোন বিষয় সম্পর্কে খুঁজে বের করো। বড় কাউকে এটা দেখাও ও তাদের সাথে এটা নিয়ে কথা বলো যে তুমি কিভাবে এটা শনাক্ত করতে পারো এবং কেনো এটা অবিশ্বাসযোগ্য। অনির্ভরযোগ্য, ক্ষতিকর ও অনিরাপদ বিষয়ের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করো।
হ্যাকার:
হ্যাকার হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে অনুনোমোদিত তথ্যে প্রবেশের উপায় বের করতে পারে। এর মানে হচ্ছে, ঐ তথ্যে বৈধভাবে তার প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। হ্যাকার মূলত অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রবেশ কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট অথবা গোপনীয় তথ্য ও নথিতে প্রবেশ/অ্যাকসেস করতে পারার দক্ষতা রাখে।
মালিক বা অনুমোদিত ব্যক্তির অনুমতি ছাড়াই হ্যাকাররা প্রায়শই ‘ফিশিং স্ক্যাম’ ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ কোনো অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে গোপন তথ্য হাতিয়ে নেয়।
ঘৃণামূলক-বক্তব্য:
ঘৃণামূলক বক্তব্য হচ্ছে কোনো ব্যক্তি বা গ্রূপকে বর্ণ, ধর্ম, জাতিগত বিষয়, অক্ষমতা ও লৈঙ্গিক বিষয় নিয়ে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রদান করা। অনলাইনে ঘৃণামূলক বক্তব্য নিয়ে সতর্ক হওয়া এবং এ ধরনের পোস্ট লাইক ও শেয়ার করা থেকে বিরত থাতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকক্ষেত্রে, কোনো অনলাইন কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ভুল পোস্ট কিংবা কৌতুক পোস্ট বা বিদ্বেষমূলকপোস্ট শেয়ার করতে পারে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার হতে পারে, কিন্তু সে পোস্ট ছড়িয়ে যাওয়ার পর এর পরবর্তী ফলাফল সম্পর্কে চিন্তা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ইনস্টাগ্রাম:
ইনস্টাগ্রাম অত্যন্ত জনপ্রি ছবি শেয়ারিং অ্যাপ যা তোমাকে সুযোগ করে দিবে প্রোফাইল পাবলিক করার মাধ্যমে (সবার জন্য উন্মুক্ত করা) বন্ধু কিংবা অন্যকারো সাথে ছবি ও ভিডিও আপলোড করে শেয়ার করার। ইনস্টাগ্রামে তুমি যা করতে পারবে:
- নিজের ছবি ও ভিডিও আপলোড করা
- হার্ট বাটন ট্যাপ করে অন্যদের ছবি লাইক করা
- ছবিতে মন্তব্য করা
- নিজের ছবি জনপ্রিয় করতে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা
- ফলোয়ার তৈরি করা এবং তাদের ফলো করা
- ‘ইনস্টা ডিএমএস’ ব্যবহার করে ফলোয়ারদের ব্যক্তিগতভাবে বার্তা দেয়া
- লাইভ স্ট্রিমিং ব্যবহার করে ইনস্টাগ্রামে লাইভে আসা
- ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ছবি ও ভিডিও আপলোড করা
(অনেকটা স্ন্যাপচ্যাটের মতোই)।
#অ্যাড #স্পন্সরড
অনেকসময় জনপ্রিয় তারকারা অর্থের বিনিময়ে ইনস্টাগ্রামে তাদের ফলোয়ারদের জন্য নতুন পণ্যের ছবি দেন। এটা একধরনের বিজ্ঞাপন এবং বর্ণনায় কিংবা হ্যাশট্যাগে এটা স্পষ্টভাবে থাকা উচিৎ যে ওই ব্যক্তি বা তারকা অর্থের বিনিময়ে পণ্যের প্রচারণা করছেন। যদিও এটা তাদের মতামতের আসল বহিঃপ্রকাশ না।
কিক-মেসেঞ্জার:
কিক মেসেঞ্জার একটি ফ্রি মেসেঞ্জার অ্যাপ যার মাধ্যমে এর ব্যবহারকারীরা একে অন্যকে বার্তা, ছবি এমনকি স্কেচও পাঠাতে পারে। এ অ্যাপে বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে শব্দ ব্যবহারের সংখ্যার কোন সীমাবদ্ধতা নেই এবং এ অ্যাপ ব্যবহারে কোনো ফি দিতে হয় না।
এক্ষেত্রে, প্রধান ঝুঁকি হচ্ছে, ব্যবহারকারীরা ইচ্ছে অনুযায়ী অচেনা কারও সাথে কানেক্ট হতে পারে এবং চ্যাট/কথা বলতে পারবে। যদিও, ব্যবহারকারীরা তাদের সুবিধা বা ইচ্ছেমতো চ্যাট থেকে বের হয়ে যেতে পারবে। কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছে যে এটা শিশুদের জন্য কতোটা নিরাপদ। এ অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি।
এ অ্যাপ ব্যবহারে কোনো ইন-অ্যাপ পারচেজ নেই কিন্তু কিক কোড ফাংশন ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করে কিক ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডগুলোর সাথে কানেক্ট করে এবং ব্যবহারকারীদের অন্য ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। কিক কিউআর কোড ব্যবহার করে ব্যবহারকারী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
লাইভ-স্ট্রিমিং:
রিয়াল-টাইমে ব্রডকাস্ট হওয়াই লাইভ স্ট্রিমিং। এর মানে হচ্ছে ইন্টারনেটে ভিডিওর মাধ্যমে লাইভে আসা। এক্ষেত্রে, দরকার হবে শুধুমাত্র ইন্টারনেট সংযোগ থাকা ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, ট্যাবলয়েড এবং ব্রডকাস্টের প্ল্যাটফর্ম।
লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো এতো জনপ্রিয় কেনো?
লাইভ স্ট্রিমিং কিছু তৈরির সুযোগ দেয় পাশাপাশি, প্রেজেন্টার হওয়ার এবং বিশ্বজুড়ে অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়। এজন্যই লাইভ স্ট্রিমিং এতো জনপ্রিয়। তুমি যেকোন কিছু বিশ্বজুড়ে তৎক্ষণাত ব্রডকাস্ট করতে পারবে।
যে সকল অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা যায়:
- ফেসবুক
- টুইটার
- ইনস্টাগ্রাম
- মি
- ইউনাউ
এক্ষেত্রে, ঝুঁকিগুলো কি কি?
অনলাইনে নিজেকে ব্রডকাস্ট করা বেশ মজার ও পাশাপাশি এটা আপনাকে নিজের শো-এর তারকা হওয়ার সুযোগ করে দিবে। কিন্তু এটা জানা থাকাও জরুরি যে, অনলাইনে নিজেকে ব্রডকাস্ট করার কিছু ঝুঁকিও রয়েছেঃ
- তুমি জানতে পারবে না তোমাকে কে দেখছে – যদি তোমার লাইভ স্ট্রিম জনপ্রিয় হয় এবং প্রচুর মানুষ সেটা দেখে সেক্ষেত্রে যেসব মানুষ তোমাকে ফলো করে না, তারাও তোমার পাবলিক প্রোফাইল দেখতে পারবেন।
- যখন তুমি অন্য কারও লাইভ স্ট্রিম দেখবে তখন তুমি নিজেও জানতে পারবেন না তুমি কি দেখতে যাচ্ছ বা কি ঘটবে। এটা লাইভ স্ট্রিমের রোমাঞ্চকর বিষয় হতে পারে তবে, এক্ষেত্রে, অন্যকারও ক্ষতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় দেখে ফেলতে পারো যা তোমাকে অস্বস্তিতে ফেলবে।
- সকল দর্শক বন্ধুভাবাপন্ন নাও অতে পারে, দর্শকরা তোমার লাইভ স্ট্রিমে মন্তব্য করতে পারে এবং তাদের মন্তব্য নীচ ও হীনমন্যকর হতে পারে। তুমি তখন খারাপ বোধ করতে পারো অথবা ভীত হতে পারো ।
- তুমি কোথায় আছেন এটা সবাইকে জানিয়ে দেয়ার আগে তোমার মনে রাখা উচিৎ তুমি লাইভ স্ট্রিমে কী দেখাতে চাও। তুমি যদি তোমার স্কুলের পোশাক পড়ে থাকো কিংবা বাসার কাছে থাকো তবে তোমার অচেনা মানুষদের জানতে দিচ্ছ যে তুমি কোথায় থাকো এবং কোন স্কুলে পড়ো অথচ তুমি এটা সাধারণত অপরিচিত কাউকে বলো না।
চ্যালেঞ্জঃ লাইভ স্ট্রিমিং-এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে বন্ধু অথবা পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করো ।
নিয়ন্ত্রণ:
অনলাইন নিরাপদ মনে হলেও এর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। এর মানে হচ্ছে, ওয়েবসাইট বা অ্যাপের কন্টেন্ট বা বিষয় অন্য কারও নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিৎ যাকে বলা হয় মডারেটর। মডারেটরের কাজ হচ্ছে, যাতে করে অপ্রাসঙ্গিক, অশোভন, ক্ষতিকর কিংবা অননুমোদিত কোনো বিষয় যাতে ওয়েবসাইটে না থাকে।
নিম্নবর্ণিত কিছু অনলাইন স্পেস মডারেট করা হয়:
- ফোরাম
- ব্লগ
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক/টুইটার ইত্যাদি)
- অনলাইন গ্রূপ
এটা কিভাবে কাজ করে?
অনলাইনে সবাই যাতে নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী আচরণ করে এটা নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মডারেটর নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইট ও অ্যাপ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। কিছু ক্ষেত্রে মন্তব্য অথবা পোস্ট অশোভন হতে পারে সেক্ষেত্রে অন্য ব্যবহারকারীরা একে রিপোর্ট করতে পারবেন।
মডারেটর এক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোনো নিয়ম বহির্ভূত বিষয় ঘটলে ঐ পোস্ট মুছে ফেলবেন। যে ব্যক্তি এ ধরবের পোস্ট করেছে তাকে সাবধান করবে যে তার পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। তারা যদি একই কাজ আবার করে তবে তাদের স্থায়ীভাবে ব্লক করে দিবেন।
নিয়ন্ত্রণ (মডারেশন) কিভাবে ওয়েবসাইট বা অ্যাপকে নিরাপদ রাখে?
একটি ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ যা নিয়মিতভাবে মডারেট করা হয় সেখানে সবসময় ইতিবাচক বিষয়ে উৎসাহিত করা হয় এবং এর পরিমণ্ডল নিরাপদ থাকে। এর মাধ্যমে নিয়ম ভঙ্গকারীরা জানতে পারে এ ওয়েবসাইটে নিয়ম বহির্ভূত কিছু করা যাবে না। সারা পৃথিবী থেকেই প্রতি মিনিটে অনেক মানুষ অনলাইনে যাচ্ছে এবং এক্ষেত্রে, নিয়মিত মডারেট করা বেশ কঠিন কাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক প্রতিষ্ঠানই এ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে এবং যেহেতু, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে তাই তারা ওয়েবসাইট নিরাপদে রাখতে মডারেশনে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ যুক্ত করার অঙ্গীকার করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু সাইট অনিয়ন্ত্রিত থাকতে পারে তার মানে, এ ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীরা কি করছে তা কেউ পর্যবেক্ষণ করছে না। এক্ষেত্রে, এনক্রিপশন করা কিছু বার্তা থাকে যা অন্যরা পড়তে পারে না। সবাই নিরাপদ ও সুরক্ষিত আছে কি না এটা যদি কেউ নিশ্চিত না করে, বিপজ্জনক যেকোন কিছু ঘটতে পারে।
চ্যালেঞ্জঃ এরপর তুমি যখন কোনো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ ব্যবহার করবে, মডারেশন ও মডারেটরদের সম্পর্কে জেনে নিও। তুমি কি মনে করছেন তারা ভালো কাজ করছে? তারা কিভাবে অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে? এ নিয়ে বন্ধুদের সাথে কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করো ।
নেটিকেট:
ইন্টারনেট ও এটিকেট (ভদ্রতা) এ শব্দ দু’টোকে এক করলে নেটিকেট শব্দটি হয়। এর মানে হচ্ছে, অনলাইনে তোমার আচরণ কেমন হওয়া উচিৎ। নেটিকেটের নিয়ম অনুসরণ করার মাধ্যমে তুমি ডিজিটাল বিশ্বকে তোমার ও অন্যদের কাছে ইতিবাচক করে তুলে ধরতে পারবে।
তুমি লক্ষ্য করে থাকতে পারেন, নেটিকেট শব্দটি অনলাইনে সহমর্মী হওয়ার মতো। অনলাইনে অন্যদের প্রতি সহমর্মী ও শোভন হওয়া নেটিকেটের নিয়ম অনুসরণের বড় একটি অংশ।
অনলাইনে কারো সাথে চ্যাট করার সময় তার অনুভূতি জানা কঠিন, আর এভাবেই কারো সাথে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। কখনও কি এমন হয়েছে যে, তুমি তোমার কোনো বন্ধুকে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ পাঠিয়েছেন আর সে তা মজা হিসেবে নিলো?
এমন অনেক মানুষ আছে যারা ইন্টারনেটের ভদ্রতা সম্পর্কে অজ্ঞাত। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঘৃণ্যমূলক মেসেজ পাঠানো কিংবা নিপিড়নমূলক মন্তব্য করার মাধ্যমে বিদ্রুপ করা এবং ভুয়া সংবাদ ছড়ানো নেতিবাচক মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। এধরনের মানুষের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করাই শ্রেয়। নির্ভরযোগ্য কাউকে উল্লেখিত ঘটনা বর্ণনা করো এবং এধরনের মানুষকে রিপোর্ট ও ব্লক করার ব্যাপারে সহায়তা নাও ।
অনলাইনে নিরাপদ থাকা ও এটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উপভোগ করার কিছু সহজ নিয়ম দেয়া হলো:
- তোমার বন্ধু ও অন্য মানুষের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার আগে সঠিকভাবে নিশ্চিৎ হও। শেয়ার করা কন্টেন্ট নিয়ে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন বা তা সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চাইতে নাও পারেন। অন্যের ব্যক্তিগত কিছু শেয়ার করার আগে তার অনুমতি নিতে হবে।
- কোনো কিছু পোস্ট করার আগে চিন্তা করো। এটি কাউকে হেয়, বিব্রত বা মর্মাহত করবে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিৎ হোন। কোনো তারকাকে সামাজিক মাধমে বাজে মন্তব্য করা এর অন্তর্ভূক্ত। অপরিচিত কারো সঙ্গে বিদ্রুপ করাও ইতিবাচক নয়।
- কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করে নাও, ভুলবশত অসত্য কোনো তথ্য শেয়ার করলে তা বিভ্রান্তি ছড়াবে।
- ইমেইল, মেসেজ কিংবা মন্তব্য কিভাবে করছো সে ব্যাপারে খেয়াল রাখো। উদাহরণস্বরূপ, তোমার শিক্ষককে বড় অক্ষরে কিছু লিখলে তা অভদ্র ও আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করে, যদিও তুমি তা বোঝাতে চাওনি।
চ্যালেঞ্জ: অনলাইনে তুমি কি করেন তা ভেবে দেখো এবং সিদ্ধান্ত নিন যে তা নিয়ম ও ভদ্রতার মধ্যে পড়ে কিনা। এ বিষয়ে তোমার বন্ধু ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলো।
অনলাইন সমানুভূতি
সমানুভূতি হচ্ছে একটি অনুভূতি যা অন্যের উপর তোমার প্রভাব সম্পর্কে তা সতর্ক করে দেয় এবং তোমার কোনো আচরণে তার প্রত্যুত্তর কেমন হবে।
উদাহরণস্বরুপ, কেউ হয়তো বা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তুমি যদি বোঝো কেনো তার এতো খারাপ লাগছে তবেই তুমি সমানুভূতি জানাতে পারবে, মনে হবে যে তুমি সমানুভূবতা দেখাচ্ছ।
সহানুভূতি এবং সমানুভূতি দেখানো একই বিষয় না। সমানুভূতি হচ্ছে কারো সমস্যায় নিজেকে পুরোপুরি মিশিয়ে ফেলা, আর অন্যদিকে সহানুভূতি হচ্ছে কারো দুঃসময়ে তার প্রতি যত্নবান হওয়া, এক্ষেত্রে খারাপ সময় পার করা মানুষটির অনুভূতি বোঝা যায় না।
স্ন্যাপচ্যাট বা ইন্সটাগ্রামে যোগাযোগের সময় কিংবা অনলাইনে গেম খেলার সময় বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় অথবা ম্যাসেজিংঅ্যাপের মাধ্যমে কথোপকথনের সময় সমানুভূতিশীল হওয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের মানসিক অবস্থা পুরোপুরি বুঝে নিয়ে সে অনুযায়ী অনলাইনে তার সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি ভালোভাবে মাথায় রাখতে হবে।
তুমি অনলাইনে সমানুভূতিশীলতা দেখানোর অনুশীলন কিভাবে করবে?
- অন্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা কিংবা তাকে মেসেজ পাঠানো আগে চিন্তা করো । সামনা-সামনি দেখা হলে কি তুমি এভাবেই কথা বলতে পারতে? তোমার কেমন লাগতো কেউ যদি তোমার সম্পর্কে একইভাবে বলতো?
- অনলাইনে ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে চিন্তা করো। এটা কাউকে মর্মাহত, রাগান্বিত, বিব্রত বা আক্রমণ করছে না তো? এটা কি যথাযোগ্য? এটি কতজন মানুষ দেখবে ও শেয়ার করবে সে ব্যাপারে তুমি কি অবগত?
- ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করো । তুমি যা বলেছেন তা অন্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং তারা কি মনে করতে পারে? এমনকি তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
- কেউ সাইবারবুলিং-এর শিকার হলে সেখানে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকো। নির্ভরযোগ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে বিষয়টি বলো এবং যে সাইবারবুলিং করছে তার সম্পর্কে রিপোর্ট করো, তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করবে না।
- কেউ যদি অনলাইন থেকে তার কোনো ছবি সরিয়ে ফেলতে বলে তবে তা সরিয়ে ফেলো।
- নিজের ব্যাপারেও নমনীয় থাকো সামাজিক মাধ্যমে প্রদর্শিত একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবন কতটা উপভোগ্য বা তার বর্তমান অবস্থা কতখানি ভালো, তা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। স্ক্রল করার সময় যদি এমন কিছু দেখে মর্মাহত হয়ে থাকো তবে তৎক্ষণাত স্ক্রলিং বন্ধ করে একটি বিরতি নাও। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একজন মানুষ কিভাবে নিজেকে প্রদর্শন করতে চায় তা নিয়ে ভাবো, আরো চিন্তা করো সেভাবে প্রদর্শন করতে সে মানুষটি তার ছবি বা ভিডিও নিজের মতো করে সম্পাদনা করতে এবং বদলাতে পারে।
চ্যালেঞ্জ: পরবর্তীতে যখন আপনি অনলাইনে যাবেন তখন নমনীয়তা ও সমানুভূতিশীলতা নিয়ে চিন্তা করবে। মাত্র একটি ইতিবাচক মেসেজ বন্ধুকে পাঠিয়ে তুমি কিন্তু তার মনকে উৎফুল্ল করতে কিংবা তার মুখে হাসি ফোটাতে পারো।
অনলাইনে-খ্যাতি:
অনলাইনে তোমার খ্যাতি বা জনপ্রিয়তা থাকলে আপনার সম্পর্কে যে কেউ সার্চ করলেই তথ্য পাবে। এটি এমন হতে পারে যে তোমার একটি ছবি/পোস্ট যা আপনি পাবলিক করে রেখেছো।
অনলাইনে তোমার খ্যাতি এবং ডিজিটাল দুনিয়ায় তোমার পদচারণা একটি সংবেদনশীল বিষয়।
অবশ্যই, অন্যরা যা বলছে এবং অনলাইনে তোমার সম্পর্কে যা শেয়ার করে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কিন্তু, তুমি প্রকাশ্যে কী করছেন তা নিয়ে সতর্কভাবে থাকা উচিত।
একটি পাবলিক পোস্ট করার আগে, ভেবে দেখো একজন অভিভাবক বা শিক্ষক তা দেখতে পেলে কি ভাবতে পারে। অন্যরা এটা দেখে কি খুশি হবে?
পাসওয়ার্ড:
পাসওয়ার্ড হচ্ছে একটি গোপন শব্দ বা অক্ষরের সমন্বয় যা আপনাকে সংরক্ষিত তথ্য বা অ্যাকাউন্টে এক্সেস বা প্রবেশ করতে দেয়।
একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এতটা সুরক্ষিত হতে হবে যা অনুমান করা সহজ নয়। পাসওয়ার্ড এর ব্যবহার অনলাইনে তোমার তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে এবং এটি ব্যক্তিগত।
কিছু সংক্ষিপ্ত টিপ:
- ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহরা করো।
- অনুমান করা যায় না এমন পাসওয়ার্ড নির্বাচন করো।
- নম্বর, সংকেত ও ছোট অক্ষর ও বড় অক্ষরে বর্ণ ব্যবহার করো।
- সবাই জানে এমন শব্দ যেমন- নিজের নাম বা পোষা প্রানীর নাম ।ব্যবহার না করাই উত্তম
- সবাই জানে এমন নম্বর যেমন- নিজের জন্ম তারিখ বা বয়স বা ফোন নম্বর ব্যবহার করা উচিত না।
- একটি শব্দের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত পঙ্কতি ব্যবহার করা উচিত যা কেউ অনুমান করতে পারবে না।
- সবচেয়ে ভালো বন্ধুর কাছ থেকেও নিজের পাসওয়ার্ড গোপন রাখো।
চ্যালেঞ্জ: উপরের টিপসগুলো পড়ে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড চিন্তা করো। এখনই উপযুক্ত সময় নিজের গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার যা কেউ জানবে না।
সমকক্ষ-থেকে-সমকক্ষ (পিয়ার টু পিয়ার ):
সমকক্ষ-থেকে-সমকক্ষ হচ্ছে যখন কোনো মানুষ সমপর্যায়ের অন্যদের সাহায্য করার জন্য নিজেদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে। শেয়ারকৃত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে এটি কাজ করে। যারা একই ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল তারা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং কিভাবে সেই সমস্যাগুলো অতিক্রম করা যায় সে সম্বন্ধে অন্যদের বিভিন্ন কৌশল শিখতে পারো।
এর একটি উদাহরণ হল- এমন কোনো মানুষ যার কুষ্ঠ রোগ আছে এবং একই সমস্যা থাকা অন্যান্যরাও একটি ব্লগ লেখার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা অন্যদের সাথে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ারের মাধ্যমে সাহায্য করেন। তারা প্রতিদিন ভিডিও ব্লগ (ভ্লগ) তৈরি করে। এছাড়াও মন ভালো করার ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে এবং বিভিন্ন টিপস দিয়ে সহায়তা করতে পারে।
কি কি ঝুঁকি আছে?
ইন্টারনেটের একটি দারুণ ব্যাপার হচ্ছে এতে তরুণরা নিজেদের কন্টেন্ট নিজেরাই তৈরি করতে পারে এবং তাদের বন্ধু এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করে নিতে পারে। নিজের তৈরি কন্টেন্ট যেমন- ভ্লগ বা ব্লগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সেগুলোতে কিছু তথ্য ভুল দিকে নিয়ে যেতে পারে, ক্ষতিকর হতে পারে কিংবা বাস্তবিক অর্থে সঠিক নাও হতে পারে।
অনলাইনে আমরা যাই দেখি কিংবা পড়ি, তা যে সত্য হবেই এমন ধারণা মোটেই ঠিক নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা পিয়ার কন্টেন্টগুলো অনেক সময়েই সেই একাউন্টের সাথে সংযুক্ত সকলের জন্যে দারুণ সব তথ্যের উৎস হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে আশঙ্কার বিষয়টি হচ্ছে এধরণের কন্টেন্টসমূহ অনেকক্ষেত্রেই পক্ষপাতমূলক হয়। এমনকি মানুষকে একটি নির্দিষ্ট দিকে ধাবিত করতে এধরণের কন্টেন্টগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে যা একসময় বড় ধরণের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্য বিশ্বাস করার আগে প্রয়োজন সেই বিষয়টি সম্পর্কে সব দিক যাচাই করে নেবার সক্ষমতা অর্জন করা। এক্ষেত্রে সক্ষমতার মানে হচ্ছে ইন্টারনেটে থাকা কোন বিষয়কে ধ্রব সত্য বলে ধরে নেয়ার আগে এই বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবার জন্যে নিজেকেই নিজের কাছে দায়বদ্ধ করে তোলার অভ্যেস গড়ে তোলা। ইন্টারনেটে পাওয়া যেকোনো বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হবার আগে নিজেই নিজেকে কিছু প্রশ্ন করা জরুরী। প্রশ্নটি হতে পারে যেই বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি এটি কি আদৌ বাস্তবসম্মত কিনা? এবং বিষয়টি কোন ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে কিনা? এই প্রশ্নগুলো যেকোনো বিষয়েই করা যেতে পারে, যেমন গণহারে ছড়িয়ে যাওয়া কোন লেখা, ছবি কিংবা গুজব।
চ্যালেঞ্জসমূহঃ পিয়ার টু পিয়ার সহযোগিতা গ্রহণের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকসমূহের একটি তালিকা প্রস্তুত করে সেটি অন্য কারো সাথে আলোচনা করা যেতে পারে।
ব্যাক্তিগত-তথ্য:
ব্যাক্তিগত তথ্যের কয়েকটি ধরণ আছে। নিজের সম্পর্কে যে তথ্য আছে তা অনলাইনে নিজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ অপরিচিত যে কেউ এ তথ্য দেখতে পারবেন। উদাহরণসস্বরুপ:
- বাসার ঠিকানা
- ফোন নম্বর
- ইমেইল আইডি
- সন্তানের স্কুলের নাম
- পুরো নাম ও জন্ম তারিখ
অনলাইনে এমন কিছু ব্যক্তিগত তথ্য আছে যা ঝুঁকিপূর্ণ না এবং সেগুলো শেয়ার করা যেতে পারে, যেমন-
- তুমি খেলা পছন্দ করো,
- তোমার পোষা কুকুরের পছন্দের খাবার,
- তোমার প্রিয় বই বা সিনেমা।
যখন তুমি অনলাইনে যাও তখন তোমার সম্পর্কে কোন ধরনের তথ্যগুলো গোপন বা ব্যক্তিগত রাখতে হবে তা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ যাতে করে অপরিচিত কেউ তোমার সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য না পেতে পারে। এটাও মনে রাখা জরুরি যে বন্ধুর ছবি বা অন্য কোনো ব্যক্তির তথ্য তাদের ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবে মনে করতে হবে। তাই বন্ধুর কোনো ছবি শেয়ার করার আগে তাকে জানিয়ে করা জরুরি।
ফিশিং:
ফিশিং হচ্ছে যখন স্ক্যামাররা তোমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, পাসওয়ার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড নম্বরের মতো ব্যাক্তিগত তথ্য অন্যায়ভাবে বের করার চেষ্টা করে। এটি ইমেল হিসাবে উপস্থাপিত হতে পারে যা তুমি কখনোই করেননি এমন একটি ক্রয়/লেনদেন নিশ্চিত করার জন্য তোমার ক্রেডিট কার্ডের বিবরণ চাইতে পারে কিংবা পোপ-আপ ম্যাসেজের মাধ্যমে জানানো হয় যে তুমি পুরষ্কার জিতেছো, পেতে হলে এখানে ক্লিক করো।
কিছু ফিশিং স্ক্যাম বেশ বাস্তবসম্মত দেখতে। স্ক্যামাররা প্রায়ই আসল কোম্পানির পক্ষ থেকে বলছে উল্লেখ করে, যেখানে তোমার একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাই ইমেইল ও ম্যাসেজ ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
কয়েকটি টিপস যা তোমাকে ফিশিং থেকে নিরাপদ রাখতে সহায়তা করবে:
- কোন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে তোমার পাসওয়ার্ড চাইবে না।
- তুমি যদি কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ
না করো আর পপ-আপ ম্যাসেজে বলে যে তুমি পুরষ্কার জিতেছো তবে তা স্ক্যাম। - ম্যাসেজ কে পাঠিয়েছে তা ভালোভাবে যাচাই করো। যদিও তারা আসল প্রতিষ্ঠান থেকে বলছে বলে দাবী করে যে প্রতিষ্ঠানে তোমার অ্যাকাউন্ট আছে। স্ক্যামারদের ইমেইল আইডি অনেকটাই উদ্ভট নম্বর, অক্ষর ও শব্দের মিশ্রন থাকে যা নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের না।
- প্রয়োজনে অনলাইনে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ইমেইল আইডি যাচাই করা উচিত।
- ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বলে স্ক্যাম ইমেইল ব্লক করার কথা জানিয়ে দেয়া জরুরি।
চ্যালেঞ্জ: কোন বন্ধু বা পরিবারের সদস্য খুঁজে নাও যারা ফিসিং সম্পর্কে জানে না এবং তাদেরকে এ বিষয়টি সম্পর্কে জনাও। তাদের এও ব্যাখ্যা করো ফিশিং কিভাবে হয় এবং তাদের কি করা উচিত আর কি করা উচিৎ না।
ফটো-শেয়ারিং:
পুরো দুনিয়ার সঙ্গে ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার ব্যাপারে বেশিরভাগ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম উদ্বুদ্ধ করে, তা সেলফি থেকে শুরু করে পরিবারের ছবি পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বের জন্য নিজের প্রোফাইল তৈরি করাই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের উদ্দেশ্য।
ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আপলোড করা ছবি কিংবা ভিডিওগুলো আপলোডের ২৪ ঘন্টার মাঝে মুছে যায় বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে কিছু অ্যাপ। একদিক থেকে বিষয়টি সত্যি হলেও এই মাধ্যমগুলো পুরোপুরি ভাবে নিরাপদ নয়। অপরপক্ষে থাকা ব্যক্তিটি চাইলেই স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটার থেকে স্ক্রিনশট অথবা ডিসপ্লে রেকর্ডিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে ছবি কিংবা ভিডিও ধারণ ও তা সংরক্ষণ করে রাখতে সক্ষম। এভাবে একান্ত গোপনীয় ছবি কিংবা ভিডিও ছড়িয়ে যাবার আশঙ্কা থাকে অনেক ক্ষেত্রে তা লজ্জার কিংবা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তোমার ছবি ব্যবহার করে কেউ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে পারে, আর তাই এ ব্যাপারে ভেবে ছবি শেয়ার করতে হবে এবং মনে রাখতে হবে যে কোনো অ্যাপ যদি বলে যে অ্যাপ এ তার ছবি আর কোথাও থাকবে না, কিন্তু তবুও অ্যাপের বাইরে তা অনলাইনে থেকেই যায়।
ফটোশপড:
কেউ যদি কোনো ছবিকে ফটোশপড বলে তখন বুঝতে হবে সেই ছবিটা ছবি সম্পাদনা করার সফটওয়্যার ফটোশপ দিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছে। মূলত ফ্যাশন ম্যাগাজিনের কভার পেজে মডেলদের ছবি মডেলিং-এর বিষয় অনুযায়ী উপযুক্ত করতে তাদের ফটোশপ করা হয়ে থাকে। ছবি সম্পাদনা করার অসংখ্য ফ্রি সফটওয়্যারের বিভিন্ন ফিল্টার ব্যবহার করে ছবি সম্পাদনা করার সুযোগ রয়েছে। অনেকে এ সফটওয়্যার দিয়ে যেকোনো ছবিকে এমনভাবে সম্পাদনা করে যে তা দেখতে অনেকটাই অবাস্তব মনে হয় এবং যা কারো আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদার জন্য হানিকর হতে পারে, বিশেষ করে, যখন মানুষ জানে না যে তার ছবি সম্পাদিত করা হয়েছে যা আসলে কৃত্রিম এবং অপ্রাসঙ্গিক। এসব ক্ষেত্রে বিচারবুদ্ধি দিয়ে সম্পাদনার কাজ করা জরুরি।
পপ-আপস:
যেকোনো ওয়েবসাইটে ভিজিট করলে মাঝে মাঝে সেখানে ছোট ছোট ম্যাসেজ পপ-আপ হিসেবে স্ক্রিণে চলে আসে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন হিসেবে সেগুলো এসে থাকে। এছাড়া স্ক্যামাররা ব্যাক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে এ কাজ করে থাকে। আর তাই সেসব পপ-আপে ক্লিক না করাই শ্রেয়। কারণ এসব অনেকাংশে ঝুঁকিপূর্ণ।
গোপনীয়তা:
অনলাইনে নিজের ব্যাক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে যখন তা সবার সঙ্গে শেয়ার করার বিষয় থাকে।
বিভিন্ন কারণে ব্যাক্তিগত তথ্য যেমন- পূর্ণ জন্ম তারিখ, পুরো নাম, ঠিকানা শেয়ার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণগুলো হচ্ছে:
- অনেকে আছে যারা তোমার ব্যাক্তিগত তথ্য চুরি করে অন্য একটি প্রোফাইল বা পরিচয় তৈরি করে।
- এছাড়া অনেকে আছে যারা অনলাইনে অন্যের ক্ষতি বা অন্যকে বিব্রত করে থাকে।
- নিজের ফোন নম্বর, স্কুলের যাবতীয় তথ্য এবং বাসার ঠিকানা সবার জন্য উন্মুক্ত করবে না।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের গোপনীয়তা সম্পর্কিত সেটিং প্রতিনিয়ত যাচাই করা উচিত যাতে করে কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকে।
চ্যালেঞ্জ: তোমার যদি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থাকে তবে সেখানে তোমার ব্যাক্তিগত তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকো। অতিরিক্ত তথ্য শেয়ার করবে না। গোপনীয়তা সেটিং সতর্কভাবে সাজিয়ে নাও ।
গোপনীয়তা-সেটিংস:
অনলাইনে নিরাপদ থাকতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম যেমন- ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা সেটিংস পরিবর্তনের সুযোগ দিয়ে থাকে। কতজন মানুষ এবং কোন কোন মানুষ ব্যবহারকারীর তথ্য দেখবে তা নির্ধারণ করা যায় এই গোপনীয়তা সেটিংসে।
অনলাইনে কোনো যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের উপর কোনো অ্যাপের গোপনীয়তা সেটিংস নির্ভর করে, তবে সাধারণত যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো হচ্ছে:
- তুমি যা পোস্ট করবে তা কি সবাই দেখবে নাকি আপনার তালিকাভূক্ত বন্ধুরা অথবা কেউই দেখবে না তা নির্ধারণ করো।
- কারা তোমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারবে তা নির্ধারণ করো।
- ইমেইল আইডি বা ফোন নম্বর দিয়ে কেউ তোমাকে খোঁজার চেষ্টা করলে পাবে কিনা তা নির্ধারণ করা।
- লোকেশন বা নিজের অবস্থানের তথ্য উন্মুক্ত থাকবে কিনা তা নির্ধারণ করা। কিছু কিছু অ্যাপ আছে যেখানো কেউ কারও অবস্থান জানতে চাইলে পেয়ে যায়। অপরিচিত মানুষদের ক্ষেত্রে তা ঝুঁকিপূর্ণ। লোকেশন সেটিং বন্ধ রাখার মাধ্যমে নিজের অবস্থান না জানানোই ভালো।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে তথ্যের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত রাখতে ব্যবহারকারী নিজ থেকেই প্রাইভেসি সেটিং এর বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এই সেটিংসমূহের নিয়মিত হালনাগাদ জরুরী। ফেসবুক কিংবা টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহ প্রতিনিয়ত তাদের প্রাইভেসি সেটিং এ পরিবর্তন এনে থাকে।
এধরণের পরিবর্তনের বিষয়টি ওয়েবসাইটসমূহ ব্যবহারকারীদের প্রতিনিয়ত অবহিত করে থাকে এবং প্রাইভেসি সেটিং-এ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসার বিষয়টি জানিয়ে থাকে। তাই মনে রাখতে হবে যে একবার প্রাইভেসি সেটিং করা মানেই তা আজীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।
চ্যালেঞ্জ: বিশ্বাসযোগ্য কাউকে নিয়ে সব অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস নির্ধারণ করো। নিজের তথ্য আরো বেশি গোপন ও নিরাপদ করতে সেটিংস কিভাবে নির্ধারণ করবে তা বড় কারো সাথে আলোচনা করো।
কিউআর-কোড:
কিউআর কোড একটি ট্রেডমার্ক যা বারকোডের একটি ধরণ এবং এটি প্রথম নকশা করা হয়েছে জাপানে। এটি একটি প্রকারের বারকোড,যা মেশিনে পাঠযোগ্য। লেবেলটি স্ক্যান করা হলে এর সাথে সংযুক্ত তথ্য প্রদর্শিত হয়।উদাহরণস্বরূপ,অসংখ্য ট্রাভেল টিকেট বর্তমানে কোডের মাধ্যমে পাঠযোগ্য যা স্মার্টফোন থেকে সরাসরি স্ক্যান করা যায়। অনেক ওয়েবসাইট এবং বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত ক্যাম্পেইনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যেনো মানুষজন বিস্তারিত তথ্য সহজেই পেয়ে যায়।
রিকোভারি:
অনলাইনে অনেক সময় ভুল হয়ে যেতে পারে এবং ভুল থেকে কিভাবে পরিত্রান পাওয়ার যায় তা জেনে নেয়া জরুরি যেনো তুমি পুনরায় ডিজিটাল বিশ্বকে পুরোদমে উপভোগ করতে পারো। পুনরুদ্ধারের একটি মূল অংশ হলো ডিজিটাল স্থিতিস্থাপকতা বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা। কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিচে দেয়া হলো তা মনে রাখা উত্তম:
- এমন কিছু যা তোমাকে ভয় পাইয়ে দেয় বা বিমর্ষ করে তোলে তখন তা একজন বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক বন্ধুকে জনাও।
- হেনস্থার শিকার হলে একজন বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করো যে তোমাকে সাহায্য করবে।
- অনলাইনে কোনো কিছু পোস্ট করলে তা যদি নিজের কাছে বিব্রতকর মনে তবে তৎক্ষণাত তা সরিয়ে ফেলো।
- কোন বন্ধুর ছবি আপলোড করার পর যদি সে বন্ধু বিমর্ষ হয়ে যায় তবে তা সরিয়ে ফেলে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়া উত্তম।
- কারও কাছে যদি পাসওয়ার্ড বলে থাকো, তবে এখনই তা পরিবর্তন করে কঠিন পাসওয়ার্ড দাও যা অন্য কেউ অনুমান করতে না পারে।
- গোপনীয়তা ও অবস্থানের তথ্য সংক্রান্ত সেটিংস যাচাই করো যাতে অন্য কেউ তোমার তথ্য ব্যবহার করে অন্যায় কাজ না করতে পারে।
চ্যালেঞ্জ: একটি সময় তুমি হয়তো অনলাইনে ভুল করেছিলে এবং কিভাবে তা সংশোধন করতে পারো সে ব্যাপারে একটি নোট তৈরি করো।
রিপোর্টিং:
তোমার ব্যবহার করা যে কোন অনলাইন পরিষেবাগুলোর মাধ্যমে যদি উক্তত্য হয়ে থাকো তবে কিভাবে রিপোর্ট করা যায় তা জেনে রাখা জরুরি। বেশীরভাগ নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা উচিত যার মাধ্যমে তুমি কোন কিছু নিয়ে রিপোর্ট বা অভিযোগ করতে পারবে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো মডারেটর বা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ করে থাকে যেকোন ধরনের নিপিড়নমূলক বা ক্ষতিকর পোস্টগুলো চিহ্নিত করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।
চ্যালেঞ্জ: একজন বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্কের সাথে তুমি যে অ্যাপস এবং ওয়েবসাইটগুলি ব্যবহার ও রিপোর্টিং সম্পর্কে জেনে নাও। অনলাইনে কোন ভুল হলে কি কি পদক্ষেপ কিভাবে নিতে হবে সে ব্যাপারে একটি নোট তৈরি করো। ভুলবশত কোনো অন্যায় হয়ে গেলে তা থেকে উত্তরনের কৌশলগুলো কি হবে তা নির্ধারণ করো।
ঝুঁকিপূর্ণ:
অনলাইনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হচ্ছে এমন একটি সম্ভাব্য বিপদ যা কারোর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে অনলাইনে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারী বলতে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে মেসেজ পাওয়াকেই বোঝায়। মনে রাখতে হবে যে অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সব যোগাযোগই বিপদজনক না, কিন্তু তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এর ফলে ক্ষতি হতে পারে। অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে এড়িয়ে চলা জরুরি।
স্ক্যাম:
কিছু মানুষ অনলাইনে কাউকে চালাকি বা ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। এর ফলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্যসহ তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফিশিং স্ক্যাম সনাক্ত করার উপায়গুলো এতে অন্তর্ভূক্ত করা আছে। এক্ষেত্রে ফিশিং স্ক্যাম সনাক্ত করার পদ্ধতি জানতে হবে। অনলাইনে স্ক্যাম কিভাবে নজরদারীতে আনা যায় এবং এমন কোনো নমুনা দেখলে বোঝা যায় যে তা স্ক্যাম তা জানা জরুরি।
স্ক্রিণশট:
এটি স্ক্রিণ ক্যাপচার হিসেবেও পরিচিত। যখন তুমি একটি স্ত্রিণশট নিচ্ছ তখন তা অনলাইনে ছবিটি যেভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে সেভাবেই সংরক্ষণ হয়ে যায়। স্মার্টফোনসহ যেকোনো ডিভাইসেই স্ক্রিণশট নেয়া যায়। যেকোনো ধরনের নিপিড়নমূলক বা বিব্রতকর মেসেজ বা পোস্টের প্রমাণ রাখার জন্য স্কিণশট উপকারী।
স্ক্রীনশট নেয়ার ক্ষমতা একটি ঝুঁকি হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে কারণ মানুষ একটি ছবির অনুলিপি নিতে সক্ষম হয়েছে যা হয়তো কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় পরে ছবিটি স্বয়ংক্রিংভাবে সরে যাবে। এটি এমন কিছু অ্যাপের কথা বলা হচ্ছে যেখানে ছবি ২৪ ঘন্টা পরে ছবি স্বয়ংক্রিংভাবে সরে যায়।
সার্চ-ইঞ্জিন:
ইন্টারনেট তথ্য খুঁজতে সহায়তা করতেই মূলত সার্চ ইঞ্জিন বিদ্যমান। তুমি অনলাইনে কোনো শব্দ টাইপ করলে সে সংক্রান্ত সকল ওয়েবসাইটের তালিকা প্রদান করে সার্চ ইঞ্জিন। ইয়াহু বা বিং-এর মতো অনেক সার্চ ইঞ্জিন আছে যা তুমি শুনেছ। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে গুগল। গুগল সারা বিশ্ব থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি অনুসন্ধানের ফলাফল প্রদান করে থাকে।
সেলফি:
এটি শুধুমাত্র নিজের ছবি যা তুমি নিজেই তুলতে পারো, সাধারণত একটি স্মার্টফোন বা ওয়েবক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়।
স্ন্যাপচ্যাট:
এটি একটি ইমেজ ম্যাসেজিং এবং মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ যেখানে আপনি ছবি পাঠাতে এবং ডিজিটাল গল্প তৈরি করতে পারবে।
স্ন্যাপচ্যাটে যা করতে পারবে:
- স্ন্যাপ পাঠানো যায় (ছবি বা ভিডিও যা ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত অনলাইনে বিদ্যমান থাকে)
- নিজের স্ন্যাপচ্যাট স্টোরি তৈরি করা যায় (২৪ ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে)
- মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত নম্বর থেকে বন্ধু খোঁজা যায়
- ছবি বা ভিডিও মজাদার করতে বিভিন্ন ফিল্টার ব্যবহার করা যায়
- অ্যাপের ম্যাসেজিং অপশনের মাধ্যমে কথা বলা যায়
- স্ন্যাপ ম্যাপের মাধ্যমে যুক্ত থাকা বন্ধুদের অবস্থান জানা যায়, যদিও নিরাপদ থাকতে তা সেটিং থেকে বন্ধ করে রাখা উচিৎ।
সামাজিক-যোগাযোগের-মাধ্যম:
ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ রয়েছে। কয়েকটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, স্ন্যাপচ্যাট ইত্যাদি।
ষ্ট্রিমিং:
ষ্ট্রিমিং হচ্ছে অনলাইনে রিয়েল টাইমে গান শোনা বা ভিডিও দেখা। এছাড়া উক্ত গান বা ভিডিও ডাউনলোড করে পরে শোনার বা দেখার সুযোগও রয়েছে।
ষ্ট্রিমিং করতে যা দরকার তা হচ্ছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট।
কিছু ষ্ট্রিমিং কন্টেন্ট বৈধ কিন্তু কোনো সিনেমা বা মিউজিক ষ্ট্রিম করা অনেক ক্ষেত্রেই অবৈধ। কারণ তা অনুমতিপ্রাপ্ত না। বিভিন্ন ওয়েবসাইট কপিরাইট এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদন নিয়ে সিনেমা, গান বা খেলার রিয়েল টাইম ভিডিও ষ্ট্রিমিং করে থাকে। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ষ্ট্রিমিং-এর সময় পপ-আপে ক্লিক করে ভাইরাসের আক্রমণের শিকার যেনো না হয় কেউ।
ট্রলিং:
বাস্তব জীবনের মতই কিছু মানুষ আছে যারা অনলাইনে অশোভন আচরণ করে। অনলাইনে নোংরা মেসেজ পাঠানো খুব সহজ এবং তা অজ্ঞাত পরিচয়ে পাঠানো যায়। যারা এধরনের মেসেজ পাঠায় তাদের বলা হয় ‘ইন্টারনেট ট্রলস’। অন্যকে কষ্ট দেয়া বা প্ররোচিত করার লক্ষ্যে অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ লেখাকে ট্রলিং বলা হয়।
অন্যকে রাগিয়ে দেয়ার জন্য বা কষ্ট দেয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমনাত্মক, নোংরা মেসেজ বা কমেন্ট লেখাকে বলা হয় ইন্টারনেট ট্রলিং।
ইন্টারনেট ট্রলিং প্রায়শই সুপরিচিত কোন ব্যক্তিকে নিয়ে করা হয় যাকে হয়তো মন্তব্যকারী কখনোই দেখেনি বা পরিচিত হয়নি। শুধুমাত্র তার সাথে অযথা তর্কে জড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টিই যেখানে থাকে উদ্দেশ্য এবং তা করা হয় একটি ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে।
এক্ষেত্রে সেই কূটতর্কে না জড়িয়ে পড়া বা পালটা উত্তর না দেয়াটাই সমীচিন কেননা তা না করলে অপর পক্ষের উদ্দেশ্যই পূরণ করা হবে। এ পরিস্থিতিতে তাদেরকে ব্লক করে রিপোর্ট করে দেয়াটাই করনীয়। বয়সে বড় কাউকে তা জানানো দরকার যাতে সে সাহায্য করতে পারে।
যদি তুমি একটি কদর্য মেসেজ পেয়ে থাকো, তবে মর্মাহত এবং রেগে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। হয়তো তোমার পাল্টা উত্তর দেয়ার ইচ্ছে হতে পারে। এতে পরিস্থিতি ভালোর চেয়ে খারাপই হবে কেননা তোমার উত্তর পাওয়া বা বিতর্কে জড়ানোই প্রেরকের উদ্দেশ্য।
এ ব্যাপারে তোমার করনীয় কি?
- বয়সে বড় কারো কাউকে সাহায্যের জন্য বলো
- প্রেরককে ব্লক করো ও তার বিরুদ্ধে ওয়েবসাইট বা অ্যাপের নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুযায়ী রিপোর্ট করো
- প্রমান হিসেবে তার পাঠানো মেসেজের কপি না রেখে তা ডিলেট করবে না
চ্যালেঞ্জঃ ট্রলিং এর একটি সহজ ব্যাখ্যা নিজের মত করে বের করো এবং অন্তত একজন মানুষকে এর সম্পর্কে অবহিত করো । মনে করে দেখো তুমি কি কখনো অনলাইন ট্রলিং এর শিকার হয়েছো কিনা বা হলে তোমার প্রতিক্রিয়া কি ছিলো।
টুইটার:
টুইটার একটি ওয়েবসাইট যেখানে রিয়েল টাইমে সবাই সংক্ষিপ্ত একটি বাক্যের মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দেয় তার কর্মকান্ড বা কোন বিশেষ বিষয়ে তার অনুভূতি।
টুইটারে যা করতে পারবে:
- ২৮০ অক্ষরের মাধ্যমে টুইট করতে পারবে
- অন্যদের ‘ফলো’ করতে পারবে
- তোমাকেও অন্যরা ‘ফলো’ করতে পারবে
- ছবি, ভিডিও ও জিআইএফ আপলোড করতে পারবে
- অন্যদের টুইট ‘রিটুইট’ বা শেয়ার করতে পারবে তোমার ফলোয়ারদের দেখানোর জন্য
- ‘পেরিস্কোপ’ ব্যবহার করে লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারবে।
টু-স্টেপ-ভেরিফিকেশন:
টু স্টেপ ভেরিফিকেশন একটি ঐচ্ছিক নিরাপত্তামূলক ফিচার যা তুমি বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের জন্য ব্যবহার করতে পারবে (ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের জন্য)। সেটিংস এ গেলে তুমি এই অপশনটি পাবে।
এক্ষেত্রে তুমি একটি বাড়তি নিরাপত্তার স্তর পাচ্ছো যেখানে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে গেলে দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে ঢুকতে হবে। অনেকটা একটি ঘরে ঢোকার জন্য দু’টি দরজার দু’টি আলাদা চাবি ব্যবহার করার মত।
কেউ যদি তোমার পাসওয়ার্ডটি তোমার অবর্তমানে পেয়েও থাকে, তাকে এই দুই স্তরের সুরক্ষা বেষ্টনী ভেদ করতে হবে, শুধুমাত্র পাসওয়ার্ড দিয়ে সে আপনার অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করতে পারবে না।
কিছু অনলাইন অ্যাকাউন্ট নিম্নলিখিত ধাপ প্রস্তাব করেঃ
- প্রথম ধাপঃ তোমার পাসওয়ার্ড (যা তুমি জানো)
- গোপন পিন বা নম্বর (যা আপনা-আপনি তৈরি হয়ে তোমার ফোনে চলে আসবে)
চ্যালেঞ্জঃ কিভাবে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করতে হয় তা জেনে নাও এবং অন্তত যেকোন একটি অ্যাকাউন্টে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করো।
অবিশ্বস্ততা:
এক্ষেত্রে অবিশ্বস্ত বা অসত্য তথ্যের কথা বুঝানো হয়েছে। অমূলক বা অবিশ্বস্ত তথ্য পেলে তা বুঝতে পারাটা জরুরী। সবসময় তা বোঝা না গেলেও মাঝে মাঝে কিছু বিষয় দেখে তা পরিষ্কারভাবে বোঝা সম্ভব।
ইউআরএল:
ইউআরএল এর সম্পুর্ণ রূপ হলো ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর। এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের ওয়েব অ্যাড্রেসকে বোঝানো হয়। উদাহরণঃ www.telenor.com একে ওয়েব লিংকও বলা হয়। ওয়েব লিংকে যখনই উদ্ভট নামের বা প্রচুর আজগুবি সংখ্যা সহ দেখবে, বুঝবে যে এই সাইটটি নির্ভরযোগ্য নয়।
ভার্চুয়াল-কারেন্সি:
এর অপর নাম ‘ভার্চুয়াল মানি’ বা অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল অর্থ। একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ভেতর এর আদানপ্রদান হয় যা নিয়ন্ত্রন করে ডেভেলপাররা।
ভ্লগ:
ভ্লগের পুরো অর্থ ভিডিও ব্লগ। বেশ কিছু জনপ্রিয় ভ্লগার আছে যাদের প্রচুর ফলোয়ার রয়েছে। তারা সমকক্ষ-সমকক্ষের মধ্যে জীবনযাত্রা, সংগীত ও রুপচর্চা নিয়ে ভ্লগিং করে থাকে।
হোয়াটস-অ্যাপ:
এটি একটি মোবাইল মেসেজিং অ্যাপ যার মাধ্যমে ফোন নাম্বারের সাহায্যে পরিচিতদের ভেতর ইন্টারনেট ব্যবহার করে মেসেজ পাঠানো যায়।
হোয়াটস অ্যাপের সাহায্যে তুমি যা করতে পারবে তা হলোঃ
- গ্রূপ তৈরি করে মেসেজ, ছবি, ভিডিও ও ফাইল পাঠাতে পারবে
- পরিচিতদের তাৎক্ষনিক মেসেজ পাঠাতে পারবে
- ভিডিও কল করতে পারবে
- ভয়েস রেকর্ড করতে পারবে
- ফোন কলের মতই ভয়েস চ্যাট করতে পারবে
- ডেস্কটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে তাৎক্ষনিক মেসেজ পাঠাতে পারবে ‘হোয়াটস অ্যাপ ওয়েব’ ব্যবহার করে
ওয়েবসাইট:
কিছু সংশ্লিষ্ট ওয়েব পেইজের সমন্বয়ে, একটি সাধারন ডোমেইন নামের আওতায় তৈরি হয় একটি ওয়েবসাইট। পাবলিক ওয়েবসাইট গুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। প্রাইভেট ওয়েবসাইট গুলো কোন একটি প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীন কাজের জন্য তৈরী করা হয় যা ব্যবহা করতে দরকার হয় ‘ইন্ট্রানেট’ এর।
বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে। যেমনঃ
- প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারে জন্যঃ telenor.com
- বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন, খবর, ভ্রমন ও বিনোদনভিত্তিক ওয়েবসাইট
- সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট: facebook.com
উইচ্যাট:
উইচ্যাট একটি মেসেজিং অ্যাপ অনেকটা হোয়াটস অ্যাপের মতই, কিছু বাড়তি ফিচার রয়েছে।
- গ্রূপ তৈরি করে মেসেজ, ছবি, ভিডিও ও ফাইল পাঠাতে পারবে
- পরিচিতদের তাৎক্ষনিক মেসেজ পাঠাতে পারবে
- ভিডিও কল করতে পারবে
- ভয়েস রেকর্ড করতে পারবে
- ফোন কলের মতই ভয়েস চ্যাট করতে পারবে
- ডেস্কটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে তাৎক্ষনিক মেসেজ পাঠাতে পারবে
- গেমস খেলতে পারবেন
- জিও-লোকেশন ফিচারের মাধ্যমে বন্ধুদের খুজতে পারবে
- ‘মোমেন্টস’ নামের মিনি ব্লগের মাধ্যমে ছবি ও মেসেজ পোস্ট করতে পারবে
